নিষ্ঠুর ভালোবাসা


 



❝নিষ্ঠুর ভালোবাসা❞

পর্ব ২

ঘরটা নিস্তব্ধ… শুধু দু’জন মানুষের গা গা নিঃশ্বাস যেন পুরো ঘরটা কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু হঠাৎই—

মায়া ঠেলে সরিয়ে দেয় আরমানকে।
আরমান হতচকিত হয়ে বলে, “তুমি কি পাগল? এখন কী হলো হঠাৎ?”

মায়া এবার আর কৃত্রিম হাসি মুখে রাখে না। চোখে তীব্র ঘৃণা আর অভিমান নিয়ে বলে,
"এই নাটক আর সহ্য হচ্ছিল না। আমি নিজের শরীর বিক্রি করি না আরমান। আমি এখানে এসেছি তোমার আসল মুখটা দেখতে। তুমি কেমন পুরুষ, সেটা পৃথিবীর সামনে আনবো আমি। তুমি ভেবেছো আমি একা পড়ে গেছি? না আরমান শাহরিয়ার, আমি আর সেই আগের মায়া না…"

আরমান রেগে ওঠে, "তাহলে এখানে এসেছো কেন? এটা কোনো খেলা?"

মায়া ঠাণ্ডা গলায় বলে,
"হ্যাঁ, খেলাই তো। সেই খেলাটা যে তুমি শুরু করেছিলে, আমি শুধু তার উত্তর দিতে এসেছি।"

এক মুহূর্তে আরমানের বুক ধ্বসে পড়ে —
তার জীবনের প্রথম মেয়ে যে তাকে অবহেলার স্বাদ দিলো, সেই মায়া আজ নিজের শক্তিতে ফিরে এসেছে।

মায়া ধীরে ধীরে আবার গাউন পড়ে নেয়।
তার চোখে আত্মবিশ্বাস, ঠোঁটে কঠোরতা।

"তুমি ভেবেছিলে আমি তোমার দেওয়া ডিভোর্স পেপার নিয়ে সব শেষ করে ফেলব? না, আরমান। আমি শুরু করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে, কিন্তু এখন শেষ করব তোমাকে ধুলোয় নামিয়ে। তুমি আমার জীবন ধ্বংস করেছিলে, এখন আমি তোমার ইমেজ ধ্বংস করব।"

আরমান যেন বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মায়ার ঠাণ্ডা অথচ জ্বলন্ত চোখ তার বুক ঝলসে দিচ্ছে।

"আজকের রাতটা শুধু শুরু, আরমান… আমি আসছি তোমার জীবনের প্রতিটি মুখোশ খুলে দিতে।"

মায়া দরজার দিকে এগোয়। পেছন থেকে আরমান শুধু বলে ওঠে,
"তুমি আমার সাথে যুদ্ধ করতে চাও মায়া?"

মায়া পেছনে না ফিরে শুধু বলে—
"না আরমান, আমি তোমাকে শিখাতে চাই– এক নারীর আত্মসম্মান নিয়ে খেলা করার ফল কী হতে পারে। যুদ্ধ আমি করবো না, তোমার বিচার করব।"

মায়া বেরিয়ে যায়। আরমান বসে পড়ে বিছানায়, তার হাতের আঙুলে এখনো মায়ার গালের স্পর্শ লেগে আছে। কিন্তু সেই মায়া আর আগের মতো কোমল নয়।


🔻 চলবে…
🔸 পর্ব ৩-এর জন্য অপেক্ষা করুন।

📌 যদি গল্পটা ভালো লেগে থাকে, তাহলে কমেন্টে জানাও, আর শেয়ার করো বন্ধুর সাথে।
🔗 পর্ব ৩-এর লিংক কমেন্টে দেওয়া হবে।




Post a Comment

Previous Post Next Post
       Click to Watch